বিশ্বব্যাপী চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। এর প্রভাবে গত মাসে প্রত্যাশার তুলনায় বেড়েছে সিঙ্গাপুর থেকে রফতানি। এতে দেশটির স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা পূর্ণ বছরের রফতানি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করেছেন। তবে এর পরেও বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে সতর্কতা অবলম্বনই শ্রেয় বলে মনে করছেন তারা। কারণ ২০২৬ সালে সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের রফতানি প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাহত হতে পারে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী অক্টোবরে দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত দেশীয় রফতানি (নডেক্স) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এটি ব্লুমবার্গ জরিপে বিশেষজ্ঞদের দেয়া ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। এর আগে সেপ্টেম্বরে সংশোধিত নডেক্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংক ইউওবির অর্থনীতিবিদ জেস্টার কোহ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে সিঙ্গাপুরের নডেক্স ৪ দশমিক ১ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা পুরো বছরের জন্য সরকারের দেয়া ১-৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত জিডিপি তথ্য প্রকাশ হলে আগে দেয়া পূর্বাভাস হালনাগাদ করতে পারে সিঙ্গাপুর সরকার।
সিঙ্গাপুর থেকে গত মাসে ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ব্যক্তিগত কম্পিউটার রফতানি প্রায় ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা চিপ রফতানি বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক ঝুঁকি এড়াতে কিছু রফতানিকারক আগাম চালান বাড়িয়েছেন। এরও প্রভাব রয়েছে রফতানি প্রবৃদ্ধিতে।
ইলেকট্রনিক-বহির্ভূত পণ্য রফতানিও অক্টোবরে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি-সংশ্লিষ্ট নয় এমন স্বর্ণ (নন-মনিটারি গোল্ড) রফতানি ১৭৬ শতাংশ, ওষুধ ২৫ ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি রফতানি ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত মাসে সিঙ্গাপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে রফতানি কমেছে। তবে তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও হংকংয়ের মতো দেশ ও অঞ্চলে রফতানির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বাণিজ্যপ্রবাহ কমে যাওয়া অঞ্চলের প্রভাব অনেকটাই সমন্বয় করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে চলমান অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।